আমাদের খবর

উদ্বোধনের সাড়ে চার বছর পরও চালু হয়নি ঝিনাইদহের কাঁচেরকোল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

কাঁচেরকোল ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কাঁচেরকোল মুন্সী আব্দুর রউফ চৌধুরী ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল উদ্বোধনের পর সাড়ে চার বছর কেটে গেলেও চালু হয়নি। এতে স্বাস্হ্যসেবাবঞ্চিত হচ্ছে এলাকার মানুষ।

৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ হাসপাতালটি নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০১৮ সালের জুলাইতে প্রত্যন্ত গ্রামে সুসজ্জিত এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়।

ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না। সরেজমিনে পরিদর্শন-কালে দেখা যায়, তিন তলাবিশিষ্ট এ হাসপাতাল আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত করা হয়েছে। পেতে রাখা হয়েছে বেড। ডাক্তারদের রুমও পরিপাটি করে সাজানো। এমনকি বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর বসানো হয়েছে। পাশেই আছে ডাক্তার ও নার্সদের থাকার জন্য সুন্দর আবাসনব্যবস্থা। আসবাবপত্র চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহৃত হচ্ছে না। পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে নিরাপদ ডেলিভারি ও অন্যান্য চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। শিশুদেরও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। একজন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীকে অন্য স্থান থেকে এনে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা পেতে প্রতিদিন গ্রাম থেকে প্রায় ৫০ জন দরিদ্র মা ও শিশু আসে। তাদের হাতে যৎসামান্য বড়ি ধরিয়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতালের পাশের বাড়ির এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েক দিন আগে এক প্রসূতির প্রসবব্যথা শুরু হলে কুষ্টিয়া নিয়ে যেতে হয়। গরিব পরিবারের অনেক টাকা ব্যয় হয়। এটি চালু হলে গরিব রোগীদের উপকার হতো। 

বেণীপুর হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ১০ বেডের হাসপাতাল সাড়ে চার বছর ধরে পড়ে আছে। ডাক্তার, নার্স নিয়োগ না করায় চালু হচ্ছে না। মানুষ সেবা পাচ্ছে না। 

কাঁচেরকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার মামুন বলেন, গ্রামের মধ্যে একটি ভালো মানের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ উদ্বোধনের পর দীর্ঘদিন পার হলেও লোকবল নিয়োগ করা হয়নি। এটি চালু হলে আশপাশের চারটি ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হতো। তিনি এটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক ডা. জাহিদ আহমেদ বলেন, দুই জন ডাক্তার, চার জন হেলথ ভিজিটর, এক জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, এক জন ফার্মাসিস্টসহ ১২ জন লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। লোকবল এলে এই ১০ বেডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল চালু করা হবে। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *